মৌলভীবাজার সংবাদদাতা:
মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দখলকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১ জন নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো:ইব্রাহীম আল হুসাইনী। আজ দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ‘মিরপুর’ এলাকার ‘দারুল ফালাহ একাডেমী’ নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনাটি ঘটেছে৷
একাধিক সূত্রের সাথে আলাপ করে জানা যায়,মিরপুর এলাকায় ‘মিরপুর হুসাইনিয়া একাডেমি’ নামে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুদীর্ঘকাল থেকে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। মো:আসাদ নামে একজন জামায়াত নেতা এ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।
একই এলাকায় মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে মো:ইব্রাহিম আলী ২০১৪ সালে ‘দারুল ফালাহ একাডেমি’ নামে একটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এতে চরমভাবে ক্ষীপ্ত হন ‘মিরপুর হুসাইনিয়া একাডেমি’র পরিচালকরা৷ তারা একই এলাকায় নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সেখানে পাঠদান চালুর ঘোর বিরোধীতা করতে থাকেন৷ এমনকি নানা মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবী জানান। কিন্তু,এ দাবী উপেক্ষা করে ৮/৯ জন শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন ‘দারুল ফালাহ একাডেমি’র প্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহীম আল হুসাইনী।
তখন থেকেই উভয়পক্ষের দ্বন্দের শুরু। ব্যাপক রেষারেষি এবং প্রতিযোগিতার পরও উভয় পক্ষ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনঢ় থাকায় দিনদিন সে দ্বন্দ প্রকট আকার ধারণ করে।
এ অবস্থায় আজ দুপুরে দারুল ফালাহ একাডেমিতে পাঠদান বন্ধের দাবীতে আকস্মিক হামলা চালান ‘হুসাইনিয়া একাডেমি’র পরিচালক,শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। হামলা প্রতিহত করতে গেলে উভয়পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের আঘাতে ঘটনাস্থলে নিহত হন ‘দারুল ফালাহ একাডেমি’র পরিচাকল মো:ইব্রাহীম আল হুসাইনী। গুরুতর আহত হন নিহত ইব্রাহীম আলমের ভাই ও একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো: খলিলুর রহমান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এবং নিহত ইব্রাহীম আল হুসাইনীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়৷
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে,কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় মামলা করেনি।
যোগাযোগ করা হলে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইয়াছিনুল হক জানান,সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নয়তো আরো প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতো। তারপরও একজন লোক মারা গেছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’