- এখলাছুর রহমান..
- ১. বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত দলের নাম জামাতে ইসলামী। ইসলামপন্থী এই দলটিকে এই মুর্হুতে বাংলাদেশের দ্বিত্বীয় বৃহত্তম দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালে অনুষ্টিত আগামী নির্বাচনে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে ইসলামপন্থী এই দলটি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের আমলে তাদের প্রথম সারির সব নেতাকে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় অনুষ্টিত মানবতা বিরোধী অপরাধের দ্বায়ে মৃত্যদন্ড দেয়া হয়। সেই থেকে কার্যত প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতিতে চলে যায় জামাতে ইসলামি। জুলাই বিপ্লব ২০২৪ পরেই কার্যত তারা প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফিরে আসে এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে।
২. অপ্রত্যাশিত ভাবে হঠাৎ করেই প্রকাশ্য রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে একটু বেশীই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জামাত এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। বিভিন্ন জায়গায় হামলা, মববাজি এবং মামলা বানিজ্যে তাদের জরিত থাকার কথা প্রকাশ্যে আসছে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর হামলা এবং তাদের অফিস দখল করে নিজেদের অফিস বানানোর খবর আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
৩. উপরোল্লেখিত জামাতের বিভিন্ন অপকর্ম দেশজুড়ে এখন নিত্য গঠনা । এই দিকে রাজনীতির মাঠে ও একের পর এক আজগুবি দাবী নিয়ে হাজির হচ্ছে জামাত। আরো কয়েকটি সমমনা ইসলামী দলকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অযৌক্তিক এবং বাস্তবতা বিবর্জিত দাবী নিয়ে রাজপথ গরম করাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছে এই দলটি। তাদের আনুপাতিক হারে আসন বন্ঠন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর ( যদিও আমাদের সংসদ এখনো এক কক্ষ বিশিষ্ট) দাবীগুলো আমাদের দেশের রাজনীতির সাথে শুধু সাংঘর্ষিকই নয় বরং হাস্যকর ও বটে। জাতীয় নির্বাচন কবে হবে এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের দলীয় বক্তব্য ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তারা কখনো ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় আবার কখনো বলে যে আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের বিচার করে তারপর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাদের সর্বশেষ দাবী ছিল আনুপাতিক হারে আসন বন্ঠন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর। এই দুই দাবী নিয়ে তারা রাজনীতির মাঠ গরম করে রাখে এবং দাবী মানা না হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে। যদি ও নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের তফশিল ঘোষনা করার পর জামাত তাদের এই দুই দাবী থেকে সরে আসে। জামাতের এই ইউ টার্নের রাজনীতি যদি ও খুবই স্বাভাবিক কিন্তু, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাদের এবারের ভিন্ন ভিন্ন বয়ান এবং সবশেষে নীরবে নির্বাচন মেনে নিয়ে চুপ থাকাকে তাদের স্বভাবসূলভ কপটতা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। দলটির পরস্পরবিরোধী এই সব বক্তব্য শুনে আপামর জনসাধারনের মনে প্রশ্ন জাগে যে জামাত আসলেই কি চায় এবং কাদের জন্য তাদের এই রাজনীতি।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
