বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি::
বিয়ানীবাজার উপজেলার মুল্লাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কটুখালিরপারে রবিবার বিকেলে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গুরুতর আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সংঘর্ষের নেতৃত্ব দেন স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল জলিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমি দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলিলের বিরুদ্ধে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে প্রায় একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, রড, ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় চারদিকের দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে । আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, আব্দুল জলিল এর আগেও বহুবার একই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। প্রতিবেশীদের জমি জোরপূর্বক দখল করা, দোকানপাট ভাঙচুর, চাঁদা আদায় এবং ভয় দেখানো তার নিত্যকার কাজ | তবে প্রভাবের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ।
এক আহতের স্বজন বলেন, “আমরা পুলিশকে বারবার অভিযোগ দিছি। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয় না। উল্টো ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারি না। হামলা হলে চুপচাপ সহ্য করি। আজও একই ঘটনা ঘটল।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তারা জানান প্রশাসনের নিরব ভূমিকার কারণে জলিলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ঘটনার পরও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, পূর্বের মতো এ ঘটনাতেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে।