এখলাছুর রহমান:
জামায়াত নির্বাচনের আগেই এমনভাবে আচরণ করছিল যেন জয় তাদের নিশ্চিত। তাদের বক্তব্য, প্রচারণা আর সমর্থকদের কথাবার্তা শুনলে মনে হচ্ছিল—এই নির্বাচন শুধু আনুষ্ঠানিকতা, সরকার গঠনও বুঝি তারাই করে ফেলবে। সামাজিক মাধ্যমে বড় বড় কথা, সভা-সমাবেশে আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা—সব মিলিয়ে তারা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল যেন রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের পক্ষেই।
কিন্তু ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর সেই আত্মবিশ্বাসের জায়গায় দেখা গেল পুরনো একটি চিত্র। হারার পরপরই অভিযোগ উঠলো ভোট কারচুপির, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা শুরু হলো, আর সঙ্গে সঙ্গে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হলো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—সেই আন্দোলন আজ কোথায়? যেসব কঠোর কর্মসূচির কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তব রূপ আমরা কতটা দেখেছি?
এরপর আবার জুলাইয়ের সংস্কার ইস্যুতে আন্দোলনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল বড় ধরনের কর্মসূচি আসবে, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই ঘোষণাগুলোও ধীরে ধীরে নীরব হয়ে গেছে। বারবার এমনটা হলে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—এই ঘোষণা আর হুমকিগুলো কি সত্যিই রাজনৈতিক কর্মসূচি, নাকি শুধু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল?
সমস্যাটা এখানেই। যখন কোনো বিষয় তাদের অনুকূলে থাকে, তখন তারা বড় বড় বক্তব্য দেয় এবং নিজেদের শক্তি অনেক বেশি দেখাতে চেষ্টা করে। কিন্তু যখন পরিস্থিতি উল্টো দিকে যায়, তখন আন্দোলনের ডাক দিয়ে পরিবেশ গরম করার চেষ্টা করা হয়। অথচ সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বা বাস্তব প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দায়িত্বশীলতা, স্পষ্ট অবস্থান এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি টিকে থাকে না। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকতে হয়। মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন—কে শুধু কথা বলে আর কে বাস্তবে কাজ করে, সেটা তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারে। ধর্মের নামে রাজনীতি এই দেশে আর চলবেনা জামায়াতের সেটা বুঝা উচিত।
